দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে বেড়েছে শিশু রোগীর চাপ। ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়ে নির্ধারিত শয্যায় জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় শিশু ওয়ার্ডে ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। গত তিন দিনে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা প্রায় ৩০০।
হাসপাতালের তিন ও চারতলার শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যার পাশাপাশি মেঝেতেও শিশুদের রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অসুস্থ শিশুদের কান্না ও স্বজনদের উদ্বেগে ওয়ার্ডে ব্যস্ততা বেড়েছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রোগীর চাপের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে ওয়ার্ডের পরিবেশ গরম হয়ে যায়। এতে অসুস্থ শিশুদের অস্বস্তি বাড়ে।
শিশুর স্বজন সাদিয়া আক্তার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে গরমে শিশুরা ঘেমে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে বিদ্যুতের সমস্যার কারণে তাদের আরও কষ্ট হচ্ছে।
আরেক স্বজন সোনিয়া খাতুন বলেন, অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে এসেও গরমের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদের মেয়ে ঠান্ডা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালে নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। তাঁর দাবি, হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।
শিশু রোগীর চাপ বাড়ায় নার্সদের ওপরও কাজের চাপ বেড়েছে। হাসপাতালের নার্সরা জানান, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিশু ভর্তি হওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় রোগীদের সেবা দিতে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে। তারপরও তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
তবে শিশুদের অসুস্থতার জন্য শুধু গরম বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে দায়ী করা ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাদের মতে, রোগের কারণ নির্ণয় করে শিশুর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।
চিকিৎসক সাজিয়া আক্তার বলেন, অতিরিক্ত ঘামের কারণে শিশুদের পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী স্যালাইন খাওয়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি গরু বা ছাগলের দুধসহ কিছু খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ সামলাতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন রোগীদের স্বজনেরা।
যে আই